| বঙ্গাব্দ

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও সংস্কারে কারসাজির অভিযোগ মির্জা ফখরুলের |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 1518129 বার পঠিত
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও সংস্কারে কারসাজির অভিযোগ মির্জা ফখরুলের |
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার ও সংস্কারে কারসাজির অভিযোগ: কড়া হুশিয়ারি মির্জা ফখরুলের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে ‘কারসাজি’র অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা

সম্প্রতি একটি মহলের পক্ষ থেকে ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে’ এমন প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে চলে যাওয়া যাবে, হায় হায় হায়! চিন্তা করেন, তাহলে আর আমার নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা এগুলার দরকার নেই নাকি?" তিনি আরও বলেন, ধর্ম একটি পবিত্র বিষয় এবং একে সস্তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা ঈমানের পরিপন্থী।

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক আবেগ কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা নতুন নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।

সংস্কার নিয়ে ‘বেঈমানি’র অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, বিএনপি তা ২০২২ সালেই '৩১ দফা'র মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিল। সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের বাইরেও কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, "সংস্কার যেটুকু হয়েছে যেটাতে একমত হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, অবশ্যই আমাদের 'হ্যাঁ' ছিল। কিন্তু তোমরা কারসাজি করেছো, তোমরা কিছুটা বেঈমানি করেছো। আমরা যেগুলোতে একমত হই নাই সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছো, তারপরও আমরা কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি।"

নির্বাচনই ঠিক করবে দেশের ভবিষ্যৎ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তার মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তন এবং ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর ত্যাগের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি হবে চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ।

মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, "এই নির্বাচনের ফলেই নির্ধারিত হবে দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসি (উদার গণতন্ত্র) হবে, নাকি উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে।" তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ধাপেই এ দেশের মানুষ স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ২০২৫ সালের সংস্কারের পথ ধরে ২০২৬ সালে যে নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ অনেক বেশি জটিল ও সংবেদনশীল।


সূত্র: যুগান্তর, বিএনপি মিডিয়া সেল এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর রাজনৈতিক সভার কার্যবিবরণী।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency